1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

অতীতের ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে চিন্তাভাবনা

বার্লিনে সাবেক পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দা পুলিশ তথা ‘স্টাসি ডকুমেন্ট-দপ্তরটি’ এক বিশেষ ধরনের আর্কাইভ৷ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় কয়েক দশক ধরে চলা দমননীতি ও অন্যায় অবিচারের প্রমাণপত্র নথিভুক্ত করে রাখা আছে এই প্রতিষ্ঠানে৷

সাবেক পূর্ব জার্মানির এই নথিপত্রগুলিকে নতুন করে গোছগাছ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এখন৷ ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবরের কথা: বর্তমান জার্মান প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন যাজক ইওয়াখিম গাউক জার্মান সরকারের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে স্টাসি-ডকুমেন্ট-দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ মানুষের জন্য সুগম করা হয় এই দপ্তরের প্রবেশপথ৷ বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে তখন৷ অনেকেই মনে করেছিলেন, এই সব গোপন নথিপত্র প্রকাশ করা মোটেও ঠিক নয়৷ বিশেষ করে সাবেক পূর্ব জার্মান সরকারের অধীনে কারা কারা কাজ করেছেন, তা প্রকাশ হয়ে পড়লে খুনখারাবিও হয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন অনেকে৷ কিন্তু সে রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি৷

Stasi-Zentrale Berlin

স্টাসির সদর দপ্তর ছিল এটি

ভালভাবেই গ্রহণ করে মানুষ

স্টাসির পুরানো নথিপত্রের দপ্তরটিকে ভালভাবেই গ্রহণ করেছে মানুষ৷ পরে এই প্রতিষ্ঠানটির নাম সংক্ষেপে ‘গাউক বেহ্যোর্ডে' বা ‘গাউক দপ্তর' বলা হতো৷

শুধু জার্মানরাই নয়, পূর্ব জার্মানির অতীত তথা ‘গাউক বেহ্যোর্ডে' র কাজকর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ওঠেন অন্যান্য দেশের মানুষরাও৷ বিশেষ করে যাদের স্বৈরশাসনের অধীনে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ তারা জানতে চান এই ধরনের উত্তরাধিকারের গুরুভার নিয়ে কী করা হয়৷

পূর্ব জার্মানির ইতিহাস গবেষকদের জন্য এই সংগ্রহশালার বিকল্প নেই৷ বলেন স্টাসি নথিপত্র দপ্তরের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান রিশার্ড শ্র্যোডার৷ তাঁর কথায়, ‘‘বলা যায় জার্মানির ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালভাবে যে অংশটির গবেষণা হয়েছে, তা হলো পূর্ব জার্মানির ইতিহাস৷ ডকুমেন্টগুলি মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে৷''

প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে

ইতোমধ্যে পূর্ব জার্মানির একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতনের ২৫ বছর পার হয়ে গিয়েছে৷ অনেকের মনে এখন এই দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে৷ বার্লিনের স্টাসি মিউজিয়ামের পরিচালক ইয়্যোর্গ ড্রিসেলমান এই প্রশ্নের উত্তর সহজেই দিয়েছেন: ‘‘আমাদের এটি আর প্রয়োজন নেই৷''

রিশার্ড শ্র্যোডারও মনে করেন, ‘‘এইসব নথিপত্র পরিদর্শনের ক্ষেত্রে দপ্তরের বিশেষ এক্তিয়ার বাতিল হয়ে গিয়েছে৷ বিষয়টি আদালত কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়েছে৷ প্রক্রিয়াটা এখন আপনা আপনি চলতে থাকবে৷''

অবশ্য ড্রিসেলমান দপ্তরটি উঠিয়ে দিলে অনেক প্রচুর অর্থ সাশ্রয় হবে বলে যে মত প্রকাশ করেছেন, তা মেনে নিতে রাজি নন শ্র্যোডার৷ তিনি মনে করেন অফিসটি বন্ধ করে দিলেও কাজটা তো আর পড়ে থাকবে না৷ যে প্রতিষ্ঠানের নামেই চলুক প্রায় একই রকম খরচ পড়বে৷

স্টাসি-নথি-দপ্তরকে উঠিয়ে দিলে কাজটা বিন্যস্ত করতে হবে৷ ফাইলগুলিকে কোথায় রাখা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে৷ এই প্রসঙ্গে তিনি কয়েকটি বিকল্প প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন৷ যেমন, ফেডারেল জনশিক্ষা দপ্তর, স্টাসি কারাগার ইত্যাদি৷

ড্রিসেলমান-এর প্রস্তাব: ফেডারেল আর্কাইভ-এর তত্ত্বাবধানে ফাইলগুলি রাখা যেতে পারে৷ এই সামগ্রীগুলি দেখাশোনা করার মতো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির৷ এছাড়া স্টাসি-নথি-দপ্তরের চেয়ে ফেডারেল আর্কাইভের কাজকর্ম সুসংগঠিতও৷

ফেডারেল আর্কাইভের অভিজ্ঞতা রয়েছে

গবেষকদের চাহিদার ব্যাপারে ফেডারেল আর্কাইভের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে পারে৷ অন্যদিকে অর্থপূর্ণ গবেষণার কাজকর্ম স্টাসি নথিদপ্তরে সম্ভব নয়৷ বলেন বার্লিনের স্টাসি মিউজিয়ামের পরিচালক ড্রিসেলমান৷

স্টাসি নথিদপ্তরের প্রয়োজনীয়তা যে শেষ হয়ে যায়নি, সে ব্যাপারে সবাই একমত৷ এই দপ্তরের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোলান্ড ইয়ান এর কারণগুলি বলেন এইভাবে: ‘‘কাজটি গুরুত্বপূর্ণ, কেননা অনেক মানুষেরই একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ একনায়কতন্ত্র কী ভাবে কাজ করে, সেটা ব্যাখ্যা করা জরুরি৷ পরবর্তী প্রজন্ম এটা জানতে চাইবে৷''

এখনও সময় আছে

স্বৈরতান্ত্রিক শাসকদের কার্যকলাপ সম্পর্কে কেউ গবেষণা করতে চাইলে নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই৷ গবেষণার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে৷ সম্প্রতি জার্মান সংসদের নিম্নকক্ষ স্টাসি নথিপত্রদপ্তরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ব্যাপারে একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন করেছে৷ সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে স্টাসি-সম্পৃক্তির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার নিয়মকানুন বাতিল হয়ে গেলে এই নথিপত্রগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশনটি৷ তবে সেটা বাস্তবায়িত হতে হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গড়াবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন