1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

অচেনা লোক, মশা আর বস্তি থেকে সাবধান

যেখানেই বেড়াতে যাবেন, দলবেঁধে যান; অচেনা লোকের দেয়া খাবার বা পানীয় মুখে তুলবেন না; রিওর বস্তিতে ঘোরাফেরা না করাই ভাল; আর ব্রাজিলে যাওয়ার সময় মশা তাড়ানোর ওষুধ নিতে ভুলবেন না৷

পশ্চিমের বিভিন্ন দেশ থেকে যারা এবার ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে ব্রাজিলে যাচ্ছেন, দূতাবাস থেকে এমন পরামর্শই তাদের দেয়া হচ্ছে৷ জুনের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হচ্ছে ফুটবলের এই বিশ্ব আসর৷

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যতোই এগিয়ে আসছে, সেই সঙ্গে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে ছিনতাই-রাহাজানির মতো অপরাধ, সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অবকাঠামো দুর্বলতার নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে৷ এ প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও আর্জেন্টিনার মতো দেশের ফুটবলপ্রেমীদের ব্রাজিলে যাওয়ার বিষয়ে এ ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে৷

ব্রাজিলে প্রতিদিন যেসব সহিংসতার খবর পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই ঘটে রিও ডি জানেরোর আশেপাশে বিভিন্ন বস্তি এলাকায়৷ স্থানীয় মাদক কারবারি আর বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে কথিত ইউপিপি পিস পুলিশ৷

খোদ রিওতেও সাম্প্রতিক সময়ে খুনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার আগের বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে৷ ১৩ জুলাই ফাইনালসহ এবারের বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচ এ শহরেই হবে৷

রিও ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কেবল রিও শহরেই খুনের ঘটনা বেড়েছে গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ৷ আর রিও রাজ্যে এই হার ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে৷

সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত ইপানেমাসহ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ডাকাতির ঘটনা প্রায় এক তৃতীয়াংশ বেড়েছে৷ ইংল্যান্ড ফুটবল দল যে হোটেলে থাকবে তার পাশেই রোচিনহা বস্তি৷ গত শুক্রবার সেখানে বন্দুকযুদ্ধে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে৷ গত মাসে ব্রাজিলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে লাইভ সাক্ষাৎকার দেয়ার সময়ই ছিনতাই হয়েছে এক নারীর সোনার নেকলেস৷

Karte Brasilien englisch

পর্যটকদের সঙ্গে বড় অংকের টাকা নিয়ে চলাফেরা না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে

ব্রাজিলের প্রতিমন্ত্রী জোসে মারিয়ানো বেলট্রামি গত শুক্রবার জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি দুই হাজার মিলিটারি পুলিশ নামানো হবে রিওর রাস্তায়৷

বিশ্বকাপের এই এক মাসে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে পাঁচ লাখের বেশি ফুটবলপ্রেমীর নিরাপত্তা দিতে হবে রিও কর্তৃপক্ষকে, যে শহরের রাস্তায় গত বছর ৩০ হাজার ৪৮৯টি ছিনতাই-ডাকাতি এবং ১২ হাজার ৩৮১টি গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে৷

স্থানীয় দৈনিক ‘ও জিয়া'-য় প্রকাশিত এক নিবন্ধে বিশ্বকাপ পর্যটকদের সঙ্গে বড় অংকের টাকা নিয়ে চলাফেরা না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ বাইরে ঘুরতে গেলে দলবেঁধে যাওয়ার পাশাপাশি কেউ দরজার কড়া নাড়লে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তারপর খোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে৷

ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, অনেকের কাছে রিও শহরকে একটি জঙ্গল বলে মনে হতে পারে, কেননা এখানে একজন পর্যটক যখন তখন দস্যু, অপহরণকারী বা ধর্ষকের হামলার মুখে পড়তে পারেন৷ এ কারণে নিবন্ধটির শিরোনাম দেয়া হয়েছে, জঙ্গলের ভ্রমণবিধি৷

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা আর জার্মানি থেকেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক এবার বিশ্বকাপ দেখতে ব্রাজিলে সফর করবেন৷ সব মিলিয়ে ছয় লাখের বেশি বিদেশি ব্রাজিলে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটকদের আসার আগেই বলে দেয়া হচ্ছে- ব্রাজিলে হয়তো তারা সব সময় পুলিশি সহায়তা পাবেন না৷ আর জার্মানির দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বলে দিয়েছ – পানশালায় গেলে সেখানে গ্লাসে কিছু মেশানো হচ্ছে কি-না, সে দিকে নজর রাখতে হবে৷ বারবনিতার পছন্দ অনুযায়ী হুটহাট কোনো জায়গায় যাওয়া চলবে না৷

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ব্রাজিলের মশার বিষয়ে৷ রাতে সবাইকে মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, যাতে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো কোনো রোগ নিয়ে দেশে ফিরতে না হয়৷

জেকে/এএসপি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন