1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অচিরেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার নিয়ম শিথিল করবে ভারত

পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে বাংলাদেশের জন্য ভিসার নিয়ম উদার করতে দিল্লি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ শুধু তাই নয়, এ নিয়ম কার্যকর করার সময় নির্দিষ্ট করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷

সুষমা স্বরাজ ২০১৪ সালে ঢাকা সফরে গিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার নিয়ম সহজ ও উদার করা হবে৷ কথা উঠেছে, তাহলে এতদিনেও তা কার্যকর হয়নি কেন? এটা শুধু মোদী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নই নয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সুষমা স্বরাজেরও বিশ্বাস আর মর্যাদার প্রশ্ন৷ তাই সুষমা স্বরাজ অবিলম্বে বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ও উদার ভিসা নিয়ম চালু করার জন্য চাপ দিয়ে চলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে৷

সংশোধিত এই ভিসা নিয়মে ঠিক কী বলেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী? বলেছিলেন ৬৫ বছরেরও বেশি এবং ১৩ বছরের কম বয়সিদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে একসঙ্গে পাঁচবছর মেয়াদি ‘মাল্টিপল এন্ট্রি' ভিসা দেওয়া হবে৷ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও সুপারিশ, ১৮ বছরের নীচে এবং ৬৫ বছরের ওপরের বাংলাদেশিদের জন্য বিনা ভিসায় ভারতে আসার সুবিধা দেওয়া হোক৷ অর্থাৎ ভারতে প্রবেশের পর তালিকাভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাঁদের দেওয়া হোক ‘ইলেকট্রনিক' বা ‘ই-ভিসা'৷ মনে করা হচ্ছে, এতে পর্যটক আগমন বাড়বে৷

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাহলে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ম চালু হয়নি কেন? আটকাচ্ছে কোথায়? জানা গেছে, এটা নাকি আটকে ছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে৷ তাদের মতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ না করেই ভিসা নীতি উদার করার নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে৷ তাই গোয়েন্দা সংস্থার হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসার নিয়ম যেভাবে সহজ ও উদার করার সুপারিশ করা হয়েছে, তাতে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না৷ যেটা সামলানো মুশকিল হবে৷ শুধু তাই নয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকেও বাধা এসেছে৷ ঐ দু'টি রাজ্যেরও অভিযোগ যে, তাদের সঙ্গে আগে থেকে আলোচনা না করেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বিজেপি ছিল আসামে বিরোধী দল৷ এখন আসামে বিজেপি সরকার৷ বলা বাহুল্য, একটা জাতীয় দায়বদ্ধতা বর্তায় রাজ্য সরকারের ওপর৷ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমুল কংগ্রেসের সরকার হলেও বাংলাদেশের প্রতি অনেক নমনীয় নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি যে আগের তুলনায় অনেক ইতিবাচক, সেটা তিনি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে গোপন করেননি৷

তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে গোটা ভিসা পরিস্থিতির ধোঁয়াশা কাটাতে এবং সংশয় নিরসনে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তাব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এজন্য এক মধ্যপন্থা অবলম্ববন করে প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচের ভিত্তিতে এক মজবুত ‘সিস্টেম' গড়ে তোলা হবে যাতে ভিসা নিয়ম কেউ লঙ্ঘন করতে না পারে৷ যেমন ‘মাল্টিপল এন্ট্রি' ভিসার জন্য আঞ্চলিক ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসে বছরে একবার সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিককে সশরীরে হাজির থাকতে হবে৷ মোটকথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে৷ ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন থেকেও এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করতে চিঠি এসেছে৷ বিষয়টি আরও খোলসা করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজ্জু৷ তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির বিরোধিতা অজানা নয়, কিন্তু মোদী সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক আস্থা আরও একধাপ বাড়াতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার নিয়ম শিথিল করতে আর দেরি করতে চায় না৷

আপনার কী মনে হয়? মোদী সরকার আসার পরে কি ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন