1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘অগ্রগতি প্রতিবেদনে শুধু সাক্ষ্যর তথ্য’

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার তাদের তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে৷ এতে ২৭ জনের সাক্ষ্য নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে৷

তদন্ত কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মিজানুর রহমান খান বুধবার দুপুরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি সলিসিটর (রিট) অঞ্জন কুমার সাহা৷ জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ব়্যাবের মহাপরিচালক, সিআইডির প্রধান এবং সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির পক্ষে আলাদা করে মোট ৬টি ফাইল জমা দেয়া হয়৷ পরে মিজানুর রহমান খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘তদন্তের ৩ পৃষ্ঠার অগ্রগতিমূলক প্রতিবেদন জমা দিয়েছি৷ এখন পর্যন্ত আমাদের কাজের ব্যাপারে আমরা সন্তুষ্ট৷'' তদন্তে কী পেয়েছেন?– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বিচ্ছিন্নভাবে আমি কিছু বলবো না৷ তদন্তের জন্য আরও ৪ সপ্তাহের সময় চাওয়া হয়েছে৷''

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার এই অগ্রগতি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপন করা হবে৷ ওই দিনই এ নিয়ে শুনানি হবে৷ তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিক্টিম পরিবারগুলোর ২৭ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে৷

আর গণশুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও ছয়জন৷ প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা বলা হয়েছে৷ অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে এই বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে৷ তিনি বলেন, সাক্ষ্য পর্যালোচনা, কারা প্রকৃত অভিযুক্ত তাদের নির্ণয়ের জন্যই চার সপ্তাহের সময় চাওয়া হয়েছে৷

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এতদিন কী কী কাজ করলাম, তা একটি বিবরণ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে৷ পাশাপাশি আরো কী ধরনের কাজ করতে হবে, তার জন্য সময় প্রয়োজন, তাও আমরা প্রতিবেদনে বলেছি৷ আরো কিছু দিন সময় পেলে পুরো তদন্ত প্রতিবেদন আমরা দিতে পারব৷''

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় ব়্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করতে হাইকোর্ট গত ৭ই মে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়৷ বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন৷ এর পরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়৷ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার৷

Bildergalerie Wasserverschwendung in Bangladesch

শীতলক্ষ্যা নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়

তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি না হলেও পুলিশ প্রশাসনের তত্পরতা ও আন্তরিকতাকে ‘সন্তোষজনক' হিসেবে উল্লেখ করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়া৷ বুধবার জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন৷ জেলা প্রশাসক বলেন, সভায় জেলা পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে খুনিদের গ্রেফতারের অনুরোধ করা হয়েছে৷ কমিটির আলোচনায় মনে হয়েছে পুলিশ সঠিকভাবেই এগোচ্ছে৷ পুলিশের তদন্তে তত্পরতা ও আন্তরিকতার কোনো অসংগতি নেই বলে মনে করা হচ্ছে৷

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন৷ এর দুই দিন পর ৩০শে এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১লা মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়৷ নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল৷ পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন৷ প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু'টি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়৷ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব়্যাব-১১ এর সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে নিহত নজরুলের পরিবারের সদস্যরা৷ পরে ব়্যাবের ওই তিন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়৷ নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে ব়্যাবকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন