1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘অক্ষম’ ইরাকি বাহিনী চাইছে মার্কিন সৈন্যরা থাকুক

মার্কিন বাহিনী পাততাড়ি গোটানোর প্রস্তুতি নিতেই ইরাকি বাহিনী জানালো, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে তারা এখনো সক্ষম নয়৷ অবশ্য এটা জানার পরও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের সৈন্য রাখা আর সম্ভব নয়৷

default

ইরাকি বাহিনী জানালো দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে তারা এখনো সক্ষম নয়

২০০৩ সালের ২০ মার্চ৷ গোলা পড়তে থাকে ইরাকে, শুরু হয় মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক অভিযান৷ উদ্দেশ্য সাদ্দাম হোসেনকে হটানো৷ বলা হচ্ছিল, তার কাছে আছে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিশাল মজুদ৷ যুদ্ধ চললো, ধরাও পড়লেন সাদ্দাম৷ ঝোলানো হলো ফাঁসিতে৷ তবে ইরাক হয়ে পড়লো মৃত্যুপুরী৷ যেখানে কোনো নোটিশ না দিয়েই হানা দেয় মৃত্যুদূত, যখন-তখন৷ মারা পড়তে থাকে মার্কিন সৈন্যরাও৷ তাই জর্জ ডাব্লিও বুশের শুরু করা এই যুদ্ধের ইতি টানার প্রতিশ্রুতি দিলেন বারাক ওবামা৷ বললেন, ক্ষমতায় গেলে সৈন্যদের আর মৃত্যুর মুখে ইরাকে ফেলে রাখবেন না, ফিরিয়ে আনবেন দেশে৷ ক্ষমতা গেলে তিনি৷ ঘোষণা দিলেন, ২০১০ সাল, মানে এই বছর থেকে শুরু হবে সৈন্য প্রত্যাহার৷ আগামী বছরের মধ্যে শেষ হবে তা৷ কিন্তু সে প্রক্রিয়া শুরুর হতেই ভিন্ন সুর শোনা গেল ইরাকি বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা বাবাকির জেবারির কণ্ঠে৷

লেফটেন্যান্ট জেবারি বাগদাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ২০১১ সালে মার্কিন সৈন্যরা চলে গেলে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হবে৷ কারণ আমরা এখনো তৈরি নই৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাকে যদি এই বিষয়ে বলতে বলা হয়, তবে আমি বলব - আমাদের তৈরি হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে৷ আর সে পর্যন্ত মার্কিন সৈন্যরা যেন থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে রাজনীতিবিদদের৷''

ein Jahr Obama Flash-Galerie

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সৈন্যরা

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ আজ বৃহস্পতিবারই ছেপেছে জেবারির এই বক্তব্য৷ জেবারির মতো একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে আসছিলেন ইরাকের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদও৷ অন্যদিকে, মার্কিন সৈন্যদের ফেরত পাঠানোর দাবিতে মিছিলও হতে দেখা গেছে ইরাকে৷

যুদ্ধ শুরুর পর অ্যামেরিকার সৈন্য সংখ্যা কখনো বেড়েছে, কখনোবা কমেছে৷ এখন সেখানে রয়েছে ৬৪ হাজার সৈন্য৷ মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা, এই মাসের শেষে এই সংখ্যা ১৪ হাজারে নামিয়ে আনা৷ ইরাকি সেনাপ্রধানের মিনতি অগ্রাহ্য করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস জানিয়ে দিলেন, ‘‘সৈন্য প্রত্যাহার চলবে৷ আগামী মাস থেকে ইরাকে আর সরাসরি কোনো যুদ্ধে থাকবে না মার্কিন সৈন্যরা৷'' যে ১৪ হাজার সৈন্যকে রাখা হচ্ছে, তাদের কাজ হবে ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা নিজেরাই নিতে পারে৷ আর এই সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমতে থাকবে৷ ২০১১ এর পর কয়েক ডজন সৈন্য থাকবে বাগদাদে৷ শুধু দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য৷

তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠিত সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না ইরাকি কর্মকর্তারাও৷ কারণ যুদ্ধের পর ইরাকিদের অনেকের হাতেই আছে অস্ত্র৷ বিভিন্ন গোত্রে গোত্রে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে৷ এর আল-কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা তো আছেই৷ ২০০৭ সালে সংঘাত-সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমলেও সম্প্রতি তা আবার বেড়েছে৷ কিছুদিন আগেই বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ১১ জন ইরাকি সৈন্য৷ আর তা দেখেই হয়তো জেনারেল জেবারি বুঝলেন, এই পরিস্থিতি সামলানো তাদের একার কম্ম নয়৷ তাই হয়তো চাইছেন, মার্কিন সৈন্যরা থাকুক আরো কিছুকাল৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ